অগ্রাধিকার পাচ্ছে অধ্যাদেশ, জুলাই সনদ এবং জ্বালানি বিষয়
নির্বাচন ও সরকার গঠনের প্রায় ৮৪ দিন পর শনিবার রাতে বসছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। রাজধানীর গুলশানে রাত ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই বৈঠককে দলটির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামে শুধু অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয় নয়, দেশের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, সংসদে উত্থাপিত জুলাই সনদের সংশোধনী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ এবং সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী নির্ধারণ—এসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এছাড়া দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব, হামের বিস্তার এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে দলের মেয়াদোত্তীর্ণ ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ, দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়েও আলাদা নির্দেশনা আসতে পারে বলে জানা গেছে। এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে আগাম কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা সরবরাহ করা হয়নি। ফলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ধরনের বৈঠকে সাধারণত আগাম নির্দিষ্ট এজেন্ডা দেওয়া হয় না। তবে এটি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয় এবং দলীয় নীতিগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরেও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে তফসিল নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই বিএনপি তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দলটি একটি প্রাথমিক তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে।
নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, সাধারণ আসনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় আগামী ১৪ মে পর্যন্ত এ নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও দ্রুত এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল ও জোটগুলোর কাছ থেকে তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিএনপি জোট, জামায়াত জোট এবং স্বতন্ত্রদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক নারী আসন নির্ধারিত রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা প্রসঙ্গে দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন, এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এই ফোরামের আলোচনা দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তারা মনে করেন।
প্রতি / এডি / শাআ










